
বালিয়াকান্দি অফিস ঃ রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামে মহাশ্মশান অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের ঘটনা আড়াল করে এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৯জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানাগেছে, উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের আঃ মালেক শেখ নামে এক ব্যাক্তি চন্দনা নদীর তীরে অবস্থিত শত বছরের পুরানো হিন্দু সমাজের মরদেহ দাহ করার স্থান মহাশ্মশান দখল করে অবৈধভাবে পাকা স্থাপনা নির্মান করে। এর প্রতিবাদে নারায়ণপুর গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ একত্র হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ প্রদান করে। নারায়নপুর গ্রামের বাসিন্দা পল্লী চিকিৎসক সুনিল কুমার ঘোষদের আবেদনের প্রেক্ষিতে রাজবাড়ী জেলার প্রশাসকের এস,এ শাখা সরকারী জায়গায় অবস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের মহাশ্বশানের জায়গা অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করতে গত ৫ জুন তারিখে একটি পত্র বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসর বরাবরে প্রেরন করেন। যার স্মারক নং ০৫-৩০-৮২০০-০১০-৫১-১৭ ৮২৮(ক)। বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পরামর্শে ৩১ জুলাই বালিয়াকান্দি সরকারী কমিশনার ভুমি এবং নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তায়েব-উর রহমান আশিক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। উচ্ছেদ অভিযানের পর গত ২ আগষ্ট নারায়নপুর গ্রামের মৃত কেসমত আলীর ছেলে আব্দুল মালেক বাদী হয়ে রাজবাড়ী ১নং আমলী আদালতে ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আবুল হোসেন খানসহ ১০ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতে মামলা নং মিসপি ২০২/১৮। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবরে প্রেরণ করেন। মামলাটি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করে। এর প্রেক্ষিতে বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদ গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে নোটিশের মাধ্যমে উভয় পক্ষকে ডেকে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন এবং লিখিত বক্তব্য গ্রহন করেন। গত ২ অক্টোবর মিসপি ২১২/১৮ এর উপজেলা পরিষদের স্মারক নং উপ/চেয়ার/বালি/রাজ ২০১৮-৪৯, স্মারক নং ৪১২ তারিখ ২/৮/১৮ইং। উপজেলা পরিষদের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাজনৈতিক বিষয় চরিতার্থ করার জন্য তার লোকজন নিয়ে আব্দুল মালেকের নারায়নপুর মৌজার বিএস ৫২২ নং দাগের দোকান ঘর ভাংচুর ও লাটপাট চালিয়েছেন। মামলায় উল্লেখ ৬৬নং নারায়নপুর মৌজার বিএস দাগ নং ৫২২ এ থাকা দোকান ঘর ভাংচুর করে দোকানে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্রসহ স্বর্ণালংকার নগদ অর্থ লুটপাট করেছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রশাসন যে জমি থেকে অবৈধ দখলমূক্ত করেছে সেই জমিটি বালিয়াকান্দি উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের। যার দাগ নং নবাবপুর ইউনিয়নের চন্দনা নদী দাগ ৫৩৮৮ এবং ৬৬ নং নারায়নপুর মৌজার রামদিয়া-বহরপুর সড়কের ২০০ নং দাগের জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হয়। অথচ তদন্ত প্রতিবেদনের ৫২২ দাগের জমির বিবরন দেওয়া হয়েছে। এ দাগের উপর আব্দুল মালেকের বাড়ী এবং পাকা দোকান ঘর বিদ্যমান। যেখানে কেউ কোনদিন কথা বলতে যায় নাই। কিন্তু আব্দুল মালেক যেই জায়গার তফসিল দিয়ে মামলা করেছে সেই জায়গাটির মুল মালিক নারায়নপুর গ্রামের মৃত সুকুমার সিকদারের ছেলে শ্রী অশোক কুমার সিকদার যার বিএস খতিয়ান ২৮২ বিএস দাগ নং ৫২২ জমির পরিমান ০৯ শতাংশ। আব্দুল মালেক কিছু লোকের সহযোগীতায় এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের জায়গাটি জোড় দখল করে রয়েছে। তদন্ত করতে গিয়ে সঠিক তথ্য প্রদান করেন নাই। বিধায় উপজেলা পরিষদ সত্যটাকে সামনে আনতে পারেন নাই। আব্দুল মালেক পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই তার পেশি শক্তি দিয়ে শক্ত পোক্ত করে কংক্রিটের পাকা স্থাপনা তৈরী করে। যেখানে এই স্থাপনাটি নির্মান করে সেটি আসলে শত শত বছর ধরে এ এলাকার হিন্দু সসম্প্রদায়ের মৃত দেহ সৎকারের শ্বশান হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। উপজেলা পরিষদের তদন্ত প্রতিবেদনে লেখা রয়েছে এ স্থানের অদুরে আরো একটি শ্মশানের সাইন বোর্ড রয়েছে। কিন্তু এখানে কখনো কোন শ্মশান ছিল না। নারায়নপুর গ্রামের দু‘টি ভাগ হওয়ায় এক শ্রেণীর অসাধু ব্যক্তিরা রাতের আধারে এ সাইনবোর্ডটি লাগিয়েছে। এদিকে মালেকের নির্মাণ করা স্থাপনাটি ৩১ জুলাই সকালে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে বালিয়াকান্দি সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ তায়েব-উর- রহমান আশিক নারায়নপুর এবং আশপাশের সাধারন মানুষের সহযোগীতায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় তিনি স্থানীয় ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবুল হোসেন খান ও মেম্বার শ্রী নিবাস মজুমদারকে সেখানে ডাকে নেন। তারা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এর ডাকে সারা দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অথচ এখানে প্রশাসনের নাম গোপন রেখে স্থাণীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ ১০জন নীরিহ মানুষের নামে মামলা দায়ের করেছেন। মালেকের করা মামলায় যাঁদেরকে আসামী করা হয়েছে তাঁরা প্রত্যেকে কোন না কোন কাজের সঙ্গে জড়িত। যে ছাপড়া ঘরটি ভাঙ্গা হয়েছে সেখানে কোন জিনিসপত্র ছিলোনা। খালী একটি টিনের ছাপড়াঘর। আর মালেক সম্প্রতি পাকা করে স্থাপনা নির্মান করছিলো। তবে জায়গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিকট থেকে নিজ নামে লিজ গ্রহন করেছে। কিন্তু প্রথম থেকেই বালিয়াকান্দি উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড বলে আসছে এখানে কোন জমির বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি। আর সরকারী কোন জায়গায় পাকা স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি গ্রহন করতে হয়। উপজেলা প্রশাসন নিয়ম কানুন মেনেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা বা কর্মচারীর উপস্থিতিতে নারায়নপুর মৌজার মালেকের অবৈধ দখল থেকে সরকারী সম্পদ উদ্ধার করেছে।
মো. আবুল হোসেন খান ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যাসায়ী সুনীল কুমার ঘোষ মন্টু একজন পল্লী চিকিৎসক, শ্রী অসিম সিকদার (কার্তিক) বহরপুর বাজারে প্রতিষ্ঠিত বীজ ও কীটনাশক ব্যবসায়ী, বিজন কুমার সিকদার কৃষিজীবি, শ্যামল কুমার সিকদার রাইচ মিল মালিক, চন্দন কুমার সিকদার, বিদ্যূৎ কুমার শর্মা স্বর্ণ ব্যবসায়ী, শ্রী গৌতম সিকদার (কালা) বালিয়াকান্দি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক, স্বপন কুমার সিকদার বাজারের চা ব্যবসায়ী ও শ্রী নিবাস মজুমদার ইসলামপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য ও বালিয়াকান্দি ম্যাজিক, মাহেন্দ্রা শ্রমিক নেতা। এ মহাশ্মশান আড়াল করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করায় এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
